Ads by Priyotunes- pAds

Free Domain

Ads by Priyotunes- pAds

Download audios, videos and many more

প্রিন্স

84 টিউন

Make Simple
ব্রেন টিউমার কি ? কেন হয় ও কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি….

5 মাস, 3 সপ্তাহ, 5 দিন, 9 ঘন্টা, 30 মিনিট আগে :: 27 March, 2017 01:07 AM

...

Sponsored Tunes Ads by Priyotunes- pAds

ব্রেন টিউমার কি ? কেন হয় ও কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি….

টিউন করেছেন : প্রিন্স | প্রকাশিত হয়েছে : 5 মাস, 3 সপ্তাহ, 5 দিন, 9 ঘন্টা, 30 মিনিট আগে :: 27 March, 2017 01:07 AM | |

Ads by Priyotunes- pAds

Download audios, videos and many more


ব্রেন টিউমার কী?
ডাঃ আবু সাঈদ: টিউমার হচ্ছে শরীরের যে কোনো জায়গায় বা অঙ্গে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এবং এই টিউমারটি যখন ব্রেনের ভেতরে হয় তখন সেটাকে আমরা বলি ব্রেন টিউমার।
এর লক্ষণগুলো কী কী?

ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউমারের লক্ষণ একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়ার এই তিনটিকে আমরা সব টিউমারের ক্ষেত্রে ধরতে পারি। এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন: রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা ব্রেন টিউমারের রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

ব্রেন টিউমার কেন হয়?
ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউমারের কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। খারাপ টিউমার শরীরের অন্য জায়গা থেকে ক্যান্সারের রূপ নিয়ে ব্রেনের মধ্যে চলে যায়। বংশগত কারণেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।

কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি? বাংলাদেশে এর প্রকোপ কেমন?
ডাঃ আবু সাঈদ : কিছু টিউমার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউমারটি একেক রকমভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। এক কথায় বলতে পারি, যে কোনো বয়সের, যে কোনো পুরুষ বা মহিলার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে।

এটা সত্যি দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে ক্রমশ আমরা এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।

 ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব?
ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য। কিছু কিছু টিউমার আছে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়। আর কিছু আছে যা থেকে আপৎ হতে পারে।

বিনাইন ব্রেন টিউমার আর ক্যান্সার ব্রেন টিউমারের মধ্যে পার্থক্য কী?
ডাঃ আবু সাঈদ : বিনাইন টিউমার মানে ভালো আর ক্যান্সার ব্রেন টিউমার হচ্ছে খারাপ টিউমার। প্রকৃতিগতভাবে পার্থক্য হচ্ছে বিনাইন ব্রেন টিউমার খুব আস্তে আস্তে হয়, যার ফলে এই রোগের লক্ষণ বা প্রকাশ অতটা তাড়াতাড়ি হয় না। আর ক্যান্সার ব্রেন টিউমার খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ব্রেন টিউমার কীভাবে চিহ্নিত করা হয়? এর জন্য কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়?
ডাঃ আবু সাঈদ : যে কোনো রোগ নির্ণয়ের প্রথম পদ্ধতিই হচ্ছে তাকে ক্লিনিকে আনা, পর্যবেক্ষণে রাখা। রোগীর বিশেষ শারীরিক পরীক্ষা করা যেটাকে আমরা বলি নিউরোলজিক্যাল বিশ্লেষণ। রোগীর বর্ণনা থেকে এবং রোগের লক্ষণ দেখে ধারণা করা যায়। মাথার নরমাল প্লেন এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা কিছু ধারণা করতে পারি কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়। পদ্ধতি হচ্ছে সিটি-স্ক্যান এবং আরও ভালো হচ্ছে এম.আর.আই।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর পরিণতি কী?
ডাঃ আবু সাঈদ : সাধারণভাবে আমরা টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করি। ১. ভালো টিউমার, ২. খারাপ টিউমার। ভালো টিউমার যদি সঠিকভাবে অপারেশন করে সম্পূর্ণ বের করা যায় তাহলে রোগী স¤পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। আর যদি ক্যান্সার টিউমার হয় তবে তারও রকমবেদ আছে। কিছু কিছু খারাপ টিউমার আছে যা হলে রোগী কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে পারে। আর কিছু কিছু টিউমার আছে যা এতই খারাপ যে, রোগী ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি বেঁচে থাকে না।

ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়?
যে কোনো টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে সার্জারি বা অপারেশন। অপারেশন করে রোগীর টিউমারকে বের করে, বায়োপসি করে প্রকৃতি নির্ণয় করে পরবর্তী চিকিৎসা করা হয়।

কী কী ধরনের মুখে খাওয়ার ওষুধ আছে?
ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউমারে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয় তবে রোগের লক্ষণগুলোর চিকিৎসা ওষুধ দ্বারা করা সম্ভব। টিউমারের জন্য যেসব লক্ষণ যেমন মাথাব্যথা ও বমি হওয়া এইসব লক্ষণের চিকিৎসায় আমরা ওষুধ দিয়ে করতে পারব। তাও সাময়িকভাবে। টিউমার যখন আস্তে আস্তে বড় হবে টিউমারের লক্ষণগুলো আরও বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়বে; যার ফলে ওষুধ দিয়ে শুধু সাময়িকভাবে তার লক্ষণগুলোকে কিছুদিন কমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু ওষুধের চিকিৎসা টিউমারের জন্য নয়।

অপারেশনের মাধ্যমে কীভাবে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করা হয়?
ডাঃ আবু সাঈদ : অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেনটা খুলে ব্রেনের যে লোকেশনে টিউমারটা আছে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে টিউমারটাকে সরিয়ে আনা হয়। ক্যান্সার টিউমারের ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু সম্ভব বের করে দিই। যতখানি বের করা যায় রোগীর উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে ব্রেন টিউমার বের করার জন্য মগজ বা ব্রেন খুলতে হয় না। রেডিও সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছোট টিউমার যেমন – ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির ছোট যেগুলো হয় সেগুলো ছোট বা নষ্ট করে দেয়া হয়।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় রঞ্জনরশ্মির ভূমিকা কী?
ডাঃ আবু সাঈদ : রঞ্জন-রশ্মি টিউমারটিকে আপাত ছোট করে দেয় বা টিউমারের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর রঞ্জনরশ্মি বলতে আমরা বুঝি অপারেশন করার পর রেডিওথেরাপি দেয়াকে। যা আমরা দিই অপারেশন করার পর যদি দেখা যায় যে টিউমারি ক্যান্সার টিউমার বা খারাপ টিউমার। সে ক্ষেত্রে রোগীকে আগে থেকেই বলে দেয়া হয় সার্জারি করলে সম্পূর্ণভাবে এটি ভালো হবে না এবং অপারেশন করার পরেও রঞ্জনরশ্মি বা রেডিওথেরাপি মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। টিউমারটি বের করে দেয়ার পর ওই এলাকায় রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যেন টিউমারটির ক্ষমতা কমে যায়।

আমাদের দেশে বর্তমানে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা কেমন হচ্ছে?
ডাঃ আবু সাঈদ : বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে এবং অধিকাংশ টিউমারের চিকিৎসা বাংলাদেশে করা সম্ভব। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে নিউরো সার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জারি অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
যদিও কিছু কিছু আধুনিক ব্যবস্থা এখানো আমাদের দেশে আসেনি। যেমন- রেডিওসার্জারি আমাদের নেই, গামা-নাইফ সার্জারি নেই। বাকি যেগুলো আছে সেগুলোতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে বলুন?
ডাঃ আবু সাঈদ : সার্বিকভাবে বলতে গেলে এখনো অনেক লোকজন আসলে জানে না যে, বাংলাদেশে কী কী নিউরোসার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জার হয়। এমনকি আমাদের অনেক চিকিৎসকেরও ভুল ধারণা আছে। বাংলাদেশে ভালো ভালো ব্রেন টিউমারের সার্জারি হচ্ছে এটা যেমন জানতে হবে তেমনই রোগীদেরও জানাতে হবে আমাদের দেশে সব ধরনের সার্জারি সম্ভব। বাংলাদেশে এখন অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো সার্জারি হচ্ছে এবং সফলতার হার অনেক বেড়েছে।

উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা কতটুকু?
ডাঃ আবু সাঈদ : উন্নত বিশ্ব বলতে আমাদের পাশের দেশও প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বলতে পারেন। ভারতে যেমন- রেডিওসার্জারি, গামা-নাইফ সার্জারি আছে যা আমাদের দেশে এখানা শুরু হয়নি। হয়ত বেশিদিন লাগবে না শুরু করতে। এই দুটি দিক ছাড়া বাকি সব সার্জারি আমাদের এখন দেশেই সম্ভব। এই সব সার্জারি আশপাশের দেশের তুলনায় মনে হয় ভালোই হয়। হয়ত আমরা এখন যে অপারেশন করি সেটা ৫ বছর আগে সম্ভব ছিল না। এগুলো এখন হচ্ছে এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তিগুলো আমাদের দেশে আসছে । ‘খরচ খুব বেশি’  রোগীদের এই ধারণাটা পরিষ্কার নয়, যখন মনে করবে যে এই সার্জারি বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ভালো হচ্ছে তখন রোগী স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে।

প্রিয় টিউনসে যুক্ত কর

নির্বাচিতটিউন মনোনয়ন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *